• সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ন
Headline
প্রকাশ্যে ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’এর প্রথম ঝলক যুদ্ধের ক্ষত, নিঃসঙ্গতা ও মানুষ-প্রাণীর গভীর বন্ধন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শেহবাজ শরীফের বৈঠক প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক যাচ্ছেন কাল, সফরসঙ্গী চার মন্ত্রীসহ ৩৫ জন শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: প্রেসিডেন্ট জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধারের সময় ফ্ল্যাটে ছিলেন এমপি! শাহজালালে ৯৪ ও ওসমানীতে ৯৮ শতাংশ স্কোর, কার্গো নিরাপত্তায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স জঘন্য অপরাধের ঘটনায় দ্রুততম সময়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার আন্তর্জাতিক মানে নিতে সচেষ্ট সরকার – স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

Link Copied !

বাংলাদেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে জার্মানির একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও জার্মানির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সংসদীয় কূটনীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই জার্মানি বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে আসছে। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোর একটি জার্মানি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৩৭ সাল থেকে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হলেও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্পিকার আরও বলেন, পরপর তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করেছে—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংকটে পড়ে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বৈরাচারী আমলের গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী। দেশের নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে তার অবদান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি গভীরভাবে আস্থাশীল। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দেশের মানুষ বারবার আত্মত্যাগ করেছে। তাদের দৃঢ় মনোবল ও দীর্ঘ সংগ্রামের ফলেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি জানান, বর্তমান সংসদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছয়জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। পাশাপাশি সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষিত এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ-জার্মানি সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় কূটনীতি আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্পিকার।

জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্দেস্ট্যাগের সদস্য নিকলাস কাপের নেতৃত্বে গেরোল্ড ওটেন, জোহান সাথফ ও উলে শাউস এবং ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বৈঠকে অংশ নেন। এ সময় জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category