হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)’-এর দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন হলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ২২ হাজার ২০১ কোটি টাকা।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণে ৩০ মাসের জন্য ৬৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের সুপারভিশনে পরামর্শক সেবা ও বিভিন্ন পরিবর্তন বা ভেরিয়েশন কাজের জন্য আরো ২৩৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পটির ব্যয় ৯০২ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)’-এর দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন হলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ২২ হাজার ২০১ কোটি টাকা।
প্রকল্পের প্রস্তাবিত তৃতীয় সংশোধিত ডিপিপির ব্যয় বৃদ্ধির বিভাজন অনুযায়ী, জানুয়ারি ২০২৫ থেকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত ৩০ মাসের মেইনটেন্যান্স ব্যবস্থাপনায় ৬৬৭ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এছাড়া জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত নির্মাণকাজের সুপারভিশনের জন্য পরামর্শক সেবা ফি বাবদ ৩০ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন ভ্যারিয়েশন কাজের জন্য ২০২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ভ্যারিয়েশন কাজের মধ্যে রয়েছে টার্মিনাল হস্তান্তরের পর বীমা, ফিক্সড গ্যাংওয়ের পরিবর্তন, দরজা ও জানালার পরিবর্তন, সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্লান্টের সিস্টেমে পরিবর্তন, আইটি ইকুইপমেন্ট পরিবর্তন এবং রেডিও কমিউনিকেশন সিস্টেমের ব্যান্ড পরিবর্তন। এসব খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০২ কোটি টাকা।
গত ৩০ আগস্ট জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, থার্ড টার্মিনাল চালু করতে অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করতে ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। আগের বকেয়াসহ এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামকে (এডিসি) এ অর্থ পরিশোধ করা হলে টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। এ অর্থের বরাদ্দের ব্যবস্থা অর্থ মন্ত্রণালয় করেছে বলেও সংসদে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এখন এর অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স (ওঅ্যান্ডএম) কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জাপানি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। গত ২৫ আগস্ট জাপানি প্রতিষ্ঠান সাব ওয়ার্কিং গ্রুপ বেবিচকের কাছে এ-সংক্রান্ত কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাব দুটি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি মূল্যায়ন করবে। প্রথমে কারিগরি প্রস্তাব এবং পরে আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আলোচনা ও দরকষাকষি শেষে চুক্তির তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।
জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত থার্ড টার্মিনাল দেশের এভিয়েশন অবকাঠামোর অন্যতম বড় প্রকল্প। নতুন টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রী ও উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সংসদে মন্ত্রীও জানিয়েছেন, টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হবে। বাড়তি আয় থেকে জাইকার ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
তবে টার্মিনাল নির্মাণ শেষ হওয়ার পর এর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনায় বড় অংকের অর্থের প্রয়োজন হওয়া প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকেও সামনে আনছে। প্রস্তাবিত তৃতীয় সংশোধনীতে শুধু ৩০ মাসের মেইনটেন্যান্সেই ৬৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট ব্যয় বৃদ্ধির প্রায় ৭৪ শতাংশ।