রাজধানীর মোহাম্মদপুরের অপরাধপ্রবণ সব স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় পুলিশের একাধিক বাহিনী সমন্বিতভাবে অভিযান চালাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মোহাম্মদপুর থানার নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ।
সভায় এলাকাবাসী মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকার মাদক, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধের চিত্র তুলে ধরেন। তারা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কার্যকর ও নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানান।
মতবিনিময় সভায় র্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সচেতন মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। দেশের স্বার্থে সবাই অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পাশে থাকবে।
তিনি বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, মোহাম্মদপুরের অপরাধপ্রবণ সব এলাকা ও স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে পুলিশের একাধিক বাহিনী সমন্বিতভাবে অভিযান চালাবে। বিট পুলিশিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদপুরকে নিরাপদ করতে প্রয়োজনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।
ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, শুধু পুলিশ সদস্য বাড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।
মোহাম্মদপুরে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের ঘোষণাও দেন ডিএমপি কমিশনার।