হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন শত শত রেমিটেন্স যোদ্ধারা দেশে আগমন করে। শুধু রেমিটেন্স যোদ্ধারাই নয় অনেক বিদেশি পর্যটক ও বাংলাদেশে আগমন করে। ইমিগ্রেশন কাজ সম্পন্ন করে লাগেজ নিয়ে কেনপি এরিয়া দিয়ে বের হয়েই এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে সকল যাত্রীদের।
কাওলা, দক্ষিন খান, উত্তরখান, উত্তরা এই সকল এলাকার একশ্রেণীর নেশাখোর পরিবহন দালাল ও ড্রাইভাররা যাত্রীদেরকে ঘিরে ধরে।এক জন যাত্রির পিছনে কম করে হলেও ৮ থেকে ১০ জন দালাল লেগে যায়। কেউবা তার লাগেজ ট্রলি নিয়ে একদিকে চলে যায়, কেউবা যাত্রীকে নিয়ে আরেক দিকে চলে যায়, আবার কেউ বা যাত্রীকে রিসিভ করতে আসা লোকদের কে নিয়ে আরেক দিকে চলে যায়,পরিবহন দালালদের এ ধরনের কর্মযজ্ঞ সকাল থেকে গভীর রাত অবধি চলে,হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
অথচ নিয়ম রয়েছে নির্ধারিত পাস ছাড়া কেউ কেনপি এরিয়াতে প্রবেশ করতে পারবে না। অথচ এসব দালালরা প্রতিদিন আনসার সদস্যদের ২০০ /৫০০ টাকা দিয়ে অবাধে কেনপি এরিয়াতে প্রবেশ করে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে সাধারন যাত্রীরা জানিয়েছেন। আবার এসব নেশাখোর পরিবহন দালালদের গাড়িতে চড়ে কেউবা তার পাসপোর্ট অথবা তার মূল্যবান জিনিসপত্র হারাচ্ছেন।গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে দুই/একদিন একটু ব্যতিক্রম চলে,আবার ম্যাজিস্ট্রেট মাঝে মধ্যেই অভিযান চালিয়ে এদেরকে জেল জরিমানা সহ বিভিন্ন সাজা দিয়ে থাকেন। কিন্তু দুই /একদিন পরেই আবার চিরাচরিত বিশৃংখলায়ই যেন নিয়মে পরিণত হয়। বিমানবন্দরের সর্বত্রই আনসারদের টাকা নিয়ে অনিয়মকে কে নিয়মে পরিণত করার প্রবণতা দেখা গেছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় কেনপি এরিয়াতে ডিউটিরত আনসারদের যেন ঈদের আমেজ। অনেক আনসার সদস্যদের এসব দালালদের নিয়ে খোশগল্পে মেতে থাকতে দেখা গেছে।অনেক যাত্রী আবার অভিযোগ করে বলেন, মাঝেমধ্যেই আমরা দেখি নিরাপত্তা দক্ষতা বাড়াতে অথবা বিভিন্ন কর্মদক্ষতা বাড়াতে পাঁচ দিন/সাত দিন ব্যাপী এমনকি মাসব্যাপী ট্রেনিংও সম্পন্ন করা হয়। যেটা নিছক অর্থের অপচয় এবং লোক দেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ সাধারণ যাত্রীরাই যদি স্বস্তি না পায়/সেবা না পায় , তাহলে এসব ট্রেনিং তো কোন কাজে আসবে না এটা নিছক অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। অনেক সাধারন যাত্রীকে আক্ষেপ করে বলতে শোনা গেছে-নতুন বাংলাদেশ কি এটাই ? যে যেভাবে পারছে দেশের প্রধান বিমানবন্দরে প্রশাসনের নাকের ডগায় সাধারণ যাত্রীদেরকে হয়রানি করছে… আবার কেউবা মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন যাতে নিরাপত্তা পাস বিহীন এসব পরিবহন দালালরা কেনপি এরিয়াতে প্রবেশ না করতে পারে। একই সাথে এই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বা সিকিউরিটি সংক্রান্ত বড় বড় পদ নিয়ে যারা চেয়ারে বসে ঘুমাচ্ছেন তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসার কথা বলেছেন। তাহলেই বিমানবন্দরে একটি সুন্দর শৃঙ্খলাতার মধ্যে দিয়ে সাধারণ যাত্রীরা হাসিমুখে চলাচল করতে পারবে।